‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শখের কালো মানিক উপহার দেয়ার জন্য গুলশানে ফিরোজার বাসায় যাই। সেখানে নেত্রীর সাথে দেখা করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়। নেত্রী কালো মানিক গ্রহণ করেছেন এবং সেটিই আমাকে উপহার হিসেবে ফেরত দিয়েছেন। ফিরোজার বাসায় আপ্যায়ন কোনদিন ভুলে যাওয়ার মত নয়। মোর জীবনে আর কোন চাওয়া পাওয়া নাই।’ -কালো মানিক নিয়ে বাড়ি ফিরে এসব কথা বলেন সোহাগ মৃধা।
শুক্রবার সকালে ষাঁড়টি নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি পৌঁছান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসা ফিরোজার সামনে ষাঁড়টি নিয়ে পৌঁছান সোহাগ মৃধা। সঙ্গে ছিল তার শিশু ছেলে জিসান ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে পৌঁছানোর পর বাসার ভিতরে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে তাদের আপ্যায়ন ও ঈদ উপহার দেয়া হয়।
সোহাগ মৃধা আমার দেশকে বলেন, ‘কালো মানিক নিয়ে গুলশানে ফিরোজার বাসায় পৌঁছা মাত্র আমাদেরকে বাসার ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার অনুভূতি প্রকাশ করি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমার উপহারটি গ্রহণ করেছেন, আবার আমাকেই উপহার হিসেবে সেটি ফেরত দিয়েছেন। ছেলে জিসান এবং আমাকে ঈদ উপহার দিয়েছেন। এ উপহারে আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। আপাতত ষাঁড়টি কোরবানি দেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পরিবারের সবাই মিলে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।'
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ফিরোজার সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, 'খালেদা জিয়া উপহার গ্রহণ করেছেন। ম্যাডামের অনুরোধ সোহাগ মৃধা যেন গরুটি উনার এলাকায় নিজের পছন্দমতো বা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ও এলাকার মানুষদের নিয়ে কোরবানি দেন, সেটাতেই ম্যাডাম সবচেয়ে খুশি। কারণ, ম্যাডাম এখানে একা আছেন। ফলে এত বড় একটা গরু কোরবানি এখানে সম্ভব না। কিন্তু ম্যাডাম উনার (সোহাগ মৃধা) যে মনের আকুতি, অনুভূতি ও আবেগ, সেটিকে গ্রহণ করেছেন।'
তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোহাগ মৃধাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সোহাগের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী।
সোহাগ মৃধা প্রায় ছয় বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি কেনেন। সেই গাভির বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় কালো মানিক। আদর-যত্নে বড় হওয়া এই ষাঁড়ের ওজন এখন প্রায় ৩৫ মণ। লম্বায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা লালন-পালন করেছেন কালো রঙের ষাঁড়টি। এটির নাম রেখেছেন কালো মানিক। শুক্রবার সকালে ষাঁড়টি নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেন।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

