বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূল্যায়ন করবেন বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তার কর্মী-সমর্থকেরা। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি বরিশালে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমানের ত্যাগীদের মূল্যায়নের ঘোষণায় আশায় বুক বেঁধেছেন তার সমর্থকেরা।
সূত্র জানায়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিগত ১৭ বছরে ৩৫০টিরও বেশি মামলার আসামি হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। শুধু মামলার আসামিই নন, রাজপথে অসংখ্যবার পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। গ্রেপ্তার হয়ে জেলের ঘানি টেনেছেন বছরের পর বছর। এর পরও তিনি এলাকা ছেড়ে পালাননি।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে পুলিশের ভয়ে যারা আত্মগোপনে কিংবা বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন না—এমন অসংখ্য নেতা দলীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে মাঠ কাঁপানো এবং নির্যাতিত নেতা আলাল পাননি দলীয় কোনো সম্মান বা স্বীকৃতি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়নও দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনের পরও আলালকে মূল্যায়ন না করায় তার কর্মী-সমর্থকেরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে গত ১৩ জুলাই বরিশালে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক সভায় ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে—এমন ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন আলাল সমর্থকরা। তাকে মন্ত্রিপরিষদে স্থান দেওয়া হচ্ছে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ২০০২-১০ সাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১০-১৭ পর্যন্ত সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ নির্বাচনে এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিস্টবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে প্রতিটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আলাল।
এরপরও গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং দলের জন্যও এক গভীর ক্ষতির বার্তা বলে মনে করেন আলাল সমর্থকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন, অনেকটা একাই লড়ে গেছেন আলাল। এতে তিনি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। কিন্তু আজও তিনি উপেক্ষিত। অবিলম্বে তাকে যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তার সমর্থকরা।
আলালকে মনোনয়নবঞ্চিত এবং তাকে মন্ত্রিত্ব না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি সমর্থিত সংবাদকর্মী সাইরাস মাহমুদ। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দলের জন্য আর কত মামলার আসামি হলে কিংবা আরো কত বছর জেল খাটলে তিনি (আলাল) মন্ত্রিত্ব পাবেন! আলাল ভাইকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার দাবি সর্বমহলের।’
মনির আহম্মেদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বিএনপি নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক মামলা মাথায় নিয়েও নমিনেশন পেলেন না মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আজ তিনি নিজ দল বিএনপিতেই উপেক্ষিত! এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, দলের নীতি ও আদর্শকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে আলালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


