ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষে সারা দেশের মতো বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবুও প্রার্থী ও ভোটারদের মনে শঙ্কা কাটছে না।
নির্বাচন উপলক্ষে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্যকে মাঠে সক্রিয় করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র্যাবের সমন্বয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি টহলে রয়েছে সেনাবাহিনী।
জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট এক হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যর পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করছে।
প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন করে সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করছে। বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, র্যাবের পক্ষ থেকে ছয়টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের দেড় শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। নদী এলাকার আটটি ভোট কেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলোকে।
তবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ছয় সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও ভোটাররা। নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ও ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।
সূত্র মতে, নির্বাচনে প্রচার বন্ধ হওয়ার পর থেকে বরিশালের বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়।
গত মঙ্গলবার বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন তার নির্বাচনি প্রধান এজেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন। এছাড়া, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া, গতকাল বুধবার বরিশাল-৬ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ করেন।
বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোবহান অভিযোগ করেন, তার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে একটি দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া, তারা সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনি নিরাপত্তার বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দিয়ে বাসায় ফিরবেন। তাদের নিরাপত্তা দেবে প্রশাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

