জুলাই বিপ্লবের বেওয়ারিশ ৬ লাশের একজনের পরিচয় মিলল

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

জুলাই বিপ্লবের বেওয়ারিশ ৬ লাশের একজনের পরিচয় মিলল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে এখনও গণঅভ্যুত্থানে নিহত ৬টি লাশ বেওয়ারিশ অবস্থায় রয়ে গেছে বলে গত শুক্রবার জানিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিশেষ সেল।

লাশগুলো শনাক্তকরণ সম্ভব না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক মর্গের হিমাগারে রাখা হয়। কারো স্বজন নিখোঁজ থাকলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেল। তবে বেওয়ারিশ সেই ৬ লাশ থেকে একজনের পরিচয় মিলেছে।

বিজ্ঞাপন

ঢামেক মর্গের হিমাগার থেকে নুরে আলম নামে এক যুবক তার ভাতিজার লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। নিহতের নাম হাসান (২০)। তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া সাহা মাদার গ্রামে। তবে পুলিশ বলছে, আইন অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া গেলেই কেবল লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঢামেক মর্গের ইনচার্জ রামু দাস আমার দেশকে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিহত এক নারীসহ ছয়জনের লাশ হাসপাতালের হিমাঘরে রাখা আছে। সবগুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কোনো স্বজন না থাকায় সবগুলো লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে একটি লাশ শনাক্তের দাবি করেন এক স্বজন।

নিহত হাসানের চাচা নুরে আলম বলেন, নিহত হাসানের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া সাহা মাদার গ্রামে। হাসান যাত্রাবাড়ী সুতিখালপাড় বালুর মাঠ এলাকায় থাকতো। গুলিস্তান এরশাদ মার্কেটে একটি ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করতো সে। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে হাসান ছিল বড়।

নুরে আলমের দাবি, গত ৫ আগস্ট বিকেলে সুতিখালপাড়ের বাসা থেকে বের হয়। এরপর আর বাসায় ফিরেনি হাসপাতালে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। এক যুবকের পায়ে তার প্যাঁচানো অবস্থায় যাত্রাবাড়ী রাস্তায় পড়ে থাকা একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেই ছবিটাই হাসানের লাশ ছিল। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে কয়েকবার এসে ৬টি লাশ দেখে গেছি। তবে শনাক্ত করতে পারিনি। দুইদিন আগে ফেসবুকে কয়েকটা ছবি দেখে আবার ঢাকা মেডিকেলে আসি। একটি লাশ ভাতিজা হাসানের সঙ্গে মিলে যায়। শনিবার সন্ধ্যার দিকে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে ফ্রিজে লাশ দেখতে পাই।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মুনসুর বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিহত কয়েকজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। যাত্রাবাড়ীর অপর একটি লাশ শনাক্তের দাবি করেছে স্বজনরা। তাদের যাত্রাবাড়ি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে হাসানের বাবা মো. মনির হোসেন এবং মা গোলেনুর বেগমকে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শাহাদাত খন্দকার আমার দেশকে বলেন, মালিবাগ সিআইডি অফিসে হাসানের বাবা মায়ের ডিএনএ পরীক্ষার কাজ আজ সম্পন্ন হয়েছে।

যাত্রা বাড়ি থানার কর্তব্যরত সাব ইন্সপেক্টর মোরশেদ আলম আমার দেশকে বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসলেই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন