আরিফুল ইসলাম নামের এক কিশোরকে হত্যার দায়ে পিরোজপুরে ৩ জনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের শাহআলম হাওলাদারের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার, বড় শৌলা গ্রামের মো. মনির মৃধার ছেলে মো. সোহাগ মৃধা ও ছোট শৌলা গ্রামের মো. আজিজ মল্লিকের ছেলে মো. শাহীন মল্লিক।
পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে ওই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দুইজন পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়শৌলা গ্রামের মো. আনোয়ার মিস্ত্রীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৮) ২০১৮ সালের ১৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। স্বজনরা অনেক খোঁজাখঁজির পর তাকে না পেয়ে ১৭ এপ্রিল মঠবাড়িয়া থানায় ৮১১ নম্বর সাধারণ ডায়েরি করেন।
১৮ এপ্রিল সকালে স্থানীয়রা বড়শৌলা খালে আরিফুলের লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিহতের পরিবারকে খবর দিলে তারা লাশ সনাক্ত করেন। লাশের মাথায়, বুকে, পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিলো। ওই দিন বিকেলে নিহত আরিফের মা মোসা. ফরিদা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী উল্লেখে মঠবাড়িয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন।
ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ১২ জনকে আসামি করলেও তদন্তে সাজাপ্রাপ্ত ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত আজ ওই রায় দেন। মামলার রায়ে নিহতের মা ফরিদা সন্তোষ প্রকাশ করলেও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না তা জানাননি।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. আহসানুল কবির বাদল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

