চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

দিনাজপুরে হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর

দিনাজপুরে হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
ছবি: আমার দেশ

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

সোমবার (১৩ এপ্রির ২০২৬) দুপুর ৩টায় ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে করে। পরে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে দিনাজপুর ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. তিতলি বলেন, রোববার দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় এক রোগীকে কার্ডিওলজি বিভাগে আনা হয়। চিকিৎসা শুরুর আগেই তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনার পরপরই রোগীর স্বজনেরা কর্তব্যরত এক নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে ফিরবেন না। হামলার প্রতিবাদে রাতেই জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি শুরু করা হয়।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের রামনগর এলাকা থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন এবং হৈচৈ সৃষ্টি করেন, যা অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটায়।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা লাশ নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকে। পরে তালা ভেঙে ভর্তি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর থেকেই ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। সিনিয়র চিকিৎসকেরা সীমিত পরিসরে সেবা চালু রেখেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা হলেও সমাধান হয়নি।”

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও বৈঠকটি অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়েছে।

এদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা। ফলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অন্যান্য রোগী তাদের স্বজনরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...