নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হলেও বরিশালের বাকেরগঞ্জে দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস। রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের জন্য যথাযথ নির্দেশ দিলেও বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেটি ছিল উপেক্ষিত।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাকেরগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিবসটি পালন উপলক্ষে নামেমাত্র আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই শহীদ ওয়াদুদ ও রাসেল তালুকদারের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠান সম্পর্কে তারা অবগত নয়। জুলাইতে নিহত উপজেলার ৬ জন শহীদের কারো কবর জিয়ারত তো দূরের কথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে কেউ তাদের ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়নি। শুধু হোয়াটসআপ গ্রুপে ইউএনও'র অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম একটি মেসেজ দিয়েছেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী নুসরাত জাহান জ্যোতি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সর্বপ্রথম তিনিসহ ১০-১২ জন বৃষ্টিতে ভিজে পৌর শহরে মিছিল করেছিলেন। অথচ আজ তিনি জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাননি। যাদের রক্তের ওপর দিয়ে মিলটন চন্দ্র পালের মতো আমলারা নতুন বাংলাদেশে ইউএনওর দায়িত্ব পেয়েছেন।
অথচ আজ সেই সব জুলাই শহীদদের ভুলে গেছেন। নিহত ও আহত পরিবারের খোঁজ নেওয়া তো দূরের কথা, তিনি দায়সারাভাবে দিবসটি পালন করেছেন। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের প্রতি ধিক্কার জানান।
জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করার কথা থাকলেও বাকেরগঞ্জের কোথাও কোনো দোয়া-মোনাজাত হয়নি ।
সূত্র জানায়, বিগত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বিলোপের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। একই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শহীদ হন আরো পাঁচজন। চলতি বছরের ২ জুলাই এক পরিপত্রে প্রতি বছর ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান সালাম জানান, অনুষ্ঠান সম্পর্কে উপজেলায় কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকরাও অবগত নয়। কোনো রকমে সাদামাটাভাবে আলোচনাসভার মধ্যদিয়ে শেষ করেছে জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আহমেদ জানান, বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম তাকে মোবাইল ফোনে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিয়েছেন। এবং এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাকে একটি মেসেজ দিতে বলেন। প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে জুলাই শহীদ দিবস পালন করলেও বাকেরগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের দায়সারা অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে নিহতের পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিল না কেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে নিহত ও গেজেটভূক্ত সকলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। দায়সারা অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি ছাত্রদল নেতা তাহমিদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
যাদের রক্তের ওপর দিয়ে আজ গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায়, সেই জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের দায়সারা আয়োজন নিয়ে নিহত ও আহত পরিবারের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

