পেটের দায়ে আইন ভাঙছে অনেকে

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় নেত্রকোনার জেলেরা

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় নেত্রকোনার জেলেরা
মাছ ধরছেন নেত্রকোনার জেলেরা। ছবি: আমার দেশ

মৎস্য বাঁচাতে সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর সেই নিষেধাজ্ঞার চাপে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুড়ির হাওরপারের হাজারো জেলে পরিবার এখন অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

দেশের অন্যতম মৎস্যভাণ্ডার নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ‘মৎস্য প্রজনন মৌসুম’ উপলক্ষে প্রথম দফা ২৮ মে থেকে ২৮ জুন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে ২য় দফা নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু জেলেদের জন্য নেই কোনো বিকল্প কর্মসংস্থান, নেই খাদ্য সহায়তা। ফলে মাঠ পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রশাসনও বেকায়দায়।

বিজ্ঞাপন

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় নিবন্ধিত জেলে ৪৯ হাজার ৩৭৮ জন। এর বাইরে আরও ৩০-৪০ হাজার অনিবন্ধিত ও মৌসুমি জেলে রয়েছে। যার সিংহভাগ মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুড়িতে। সবাই হাওর-বিল-নদীর মাছের ওপর নির্ভরশীল।

মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুড়ির হাওর-বাঁওড়, খাল-বিলে চলছে মাইকিং, ব্যানার ও অভিযান। কিন্তু পেটের ক্ষুধা কি মাইকিং দিয়ে বন্ধ করা যায়?

গত ৩ জুন এলাকা সফর করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রেল ও সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং নেত্রকোনা-৪ এর সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। সফরে ১৬ টন পোনা অবমুক্ত করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পোনা অবমুক্তির সঙ্গে জেলেদের পেটের ব্যবস্থা হলো না।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় গত ১২ জুলাই ডিঙ্গাপোতা হাওর থেকে ৪টি বড় জাল আটক করে আদর্শনগর পুলিশ ফাঁড়ি। পরদিন শতাধিক জেলে গিয়ে জাল ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৬৫ জনকে নামীয় ও ৮০০-১১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছে।

৪নং ইউনিয়নের এক জেলে ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধ রাখলে পেটের খিদা কি বন্ধ থাকবে? আমরা আইন মানতে চাই। কিন্তু পরিবার চালাব কীভাবে? এখন আবার মামলাও দিছে।’

তেতুলিয়া ইউনিয়নের জেলেরা জানান, স্বাধীনতার পর এই সময়ে ডিঙ্গাপোতা হাওরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল না। এনজিও থেকে সুদে টাকা নিয়ে জাল কিনেছি। এখন মাছ না ধরলে ঋণের টাকা দিবো কিভাবে?’

খালিয়াজুড়ির আমির হোসেন বলেন, ‘সরকারের আইন মানি। সরকারও আমাদের বাঁচার রাস্তা দেখাক। মাছ না ধরলে বউ-পোলাপান নিয়ে পথে বসতে হবে।’

গত এপ্রিল মাসে এই অঞ্চলের হাওরের বোরো ধান পানিতে ডুবেছে। অন্যদিকে এখন মাছ ধরাও বন্ধ। দ্বিমুখী সংকটে কৃষক-জেলে সবাই। চায়ের দোকান থেকে হাটবাজার-সর্বত্র এখন একই আলোচনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ রক্ষার সঙ্গে মানুষ রক্ষার পরিকল্পনাও জরুরি। তা না হলে এই নিষেধাজ্ঞা কাগজেই থেকে যাবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন