ফকল্যান্ডস ব্যানার বিতর্কে ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা

ফকল্যান্ডস ব্যানার বিতর্কে ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা শৃঙ্খলাগত তদন্ত শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার তুলে ধরেন। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, “Las Malvinas son Argentinas”—বাংলায় যার অর্থ, “মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার।”

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধও হয়েছিল। তাই ম্যাচ-পরবর্তী এই ব্যানার প্রদর্শন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।

এরপর ফিফা নিশ্চিত করেছে, ঘটনাটি তাদের স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি পর্যালোচনা করছে। ম্যাচ কমিশনার ও কর্মকর্তাদের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক, আদর্শগত বা ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পর্কহীন বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এটি অবশ্য প্রথম ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করেছিল ফিফা।

মজার বিষয় হলো, সেমিফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ফুটবল ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। এত বছর আগের একটি বেদনাদায়ক ইতিহাসকে আমি ফুটবলের সঙ্গে মেলাতে চাই না।’

তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত ফিফা কোনো শাস্তি ঘোষণা করেনি। ফলে আর্জেন্টিনা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে পারবে। তদন্ত শেষে ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়োজন মনে করলে জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন