আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চরফ্যাশনে হাজার হাজার নলকূপে উঠছে না পানি, দুর্ভোগে মানুষ

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)

চরফ্যাশনে হাজার হাজার নলকূপে উঠছে না পানি, দুর্ভোগে মানুষ

ভোলার চরফ্যাশনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে চরফ্যাশন পৌরশহরসহ ২১টি ইউনিয়নের ১২ হাজার গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করছেন বাসিন্দারা।

এতে সুপেয় পানির সংকটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। এতে বিভিন্ন বাসা -বাড়িতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। মসজিদে মসজিদে পানি না থাকার কারণে অজুতে বিঘ্ন ঘটছে। পুকুরের পানিতে ময়লা থাকায় এ পানি ব্যবহারে দেখা দিয়েছে নানা রোগ। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু-কিশোররা।

বিজ্ঞাপন

চরফ্যাশন উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে ১০/১২ হাজারটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় উপজেলায় রয়েছে আরো লক্ষাধিক গভীর নলকূপ। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও সরকারি অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২ হাজার ৫০০ নলকূপ অকেজো আছে। এসবের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে ৪০ হাজারের বেশি নলকূপের পানি উঠছে না। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় অর্ধলাখ গভীর নলকূপে মিলছে না পানি।

চেয়ারম্যান বাজারের পল্লি চিকিৎসক জাকির হোসেন ফিরোজ আমার দেশকে বলেন, গত শুক্রবার চেয়ারম্যান বাজার জামে মসজিদের সাপ্লাইতে পানি ছিল না, তাই অজু করতে না পেরে অনেক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেনি। জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর টিউবওয়েল থেকে পানি ব্যবহার করে আসছি। প্রায় তিন মাস আগ থেকে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পুরো এলাকাতে মাত্র কয়েকটি টিউবওয়েল থেকে এখনো পানি উঠছে।

জাহানপুর ইউনিয়নের ইরি-বোরো গভীর নলকূপ প্রজেক্টের মালিক শাজাহান জানান, কৃষি আবাদের স্বার্থে আমরা নলকূপ বসিয়েছি। নলকূপের জন্য কৃষকদের ভালো হয়েছে। আমাদের ইরি-বোরো ভালো আসা করা যাচ্ছে। এ শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না।

চরফ্যাশন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এখানে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। ফলে গভীর নলকূপগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পানি উঠছে না। প্রতি বছর পানির স্তর দুই ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। পাশাপাশি মানবসৃষ্ট সেচ কাজে ব্যবহার করা নলকূপের কারণে পানির স্তর নিচে নেমেছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী আরিফ হোসেনের বক্তব্য নিতে ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন