উজিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ড: দুই আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা

উজিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ড: দুই আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা
ছবি: আমার দেশ

বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর দুই আসামির বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে সাতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালেও রাস্তা সরু হওয়ায় ঘটনাস্থলে যেতে না পেরে ফিরে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলাকান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদার নামের ওই যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মাইক্রোবাস ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উজিরপুর থানার পুলিশ।

এলাকাবাসী জানান, নিহত যুবদল কর্মী কাওসারের জানাজা শনিবার এশার নামাজের পর নিজ বাড়িতে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ফেরার পথে শনিবার সন্ধ্যার পর আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় সেতুসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি, তার বড় ভাই নান্না মোল্লার বাড়ি এবং তাদের বাবার ঘরসহ মোট তিনটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। একই তথ্য নিশ্চিত করে ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে।

এদিকে আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘর তিনটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তারেক আজিজ আমার দেশকে বলেন, ‘যুবদল কর্মী কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার দুপুরের পর তাঁর ভাই মোস্তফা বাদী হয়ে সজল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫–২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ ছিল না, ফলে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। তবে কারা এই আগুন দিয়েছে, তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলা কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও ধারালো অস্ত্রসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন