নলছিটিতে বৃক্ষরোপণ না করেই ভুয়া প্রতিবেদন

মোহাম্মদ মোহসীন, নলছিটি (ঝালকাঠি)

নলছিটিতে বৃক্ষরোপণ না করেই ভুয়া প্রতিবেদন
ছবি: সংগৃহীত।

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারের সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এক অভিনব জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক ‘বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় কোনো গাছ না লাগিয়েই নলছিটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে কোনো চারা রোপণ না করেই কাগজে-কলমে মোট ১৮ হাজার ৫১৯টি বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে বলে ভুয়া খতিয়ান পেশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে তথ্য ও প্রমাণসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নলছিটির ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে কোনো গাছ না লাগিয়েই সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বরত ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চরম সমন্বয়হীনতা এবং দায় এড়ানোর চিত্র ফুটে ওঠে। দপদপিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, কুলকাঠি ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম, সিদ্ধকাঠী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম এবং রানাপাশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লালু হোসেনের নাম এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

ছাড়া নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, কুশঙ্গল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী হাওলাদার, মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবু সালেহ এবং ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রকৃতপক্ষে ফান্ড বা বরাদ্দ না থাকায় তারা কোনো বৃক্ষরোপণ করতে পারেননি।

তবে উপজেলা পরিষদ থেকে তাগিদ থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা তড়িঘড়ি করে এবং সম্পূর্ণ তড়িঘড়ি উপায়ে এই ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পরবর্তীতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে তারা অজুহাত দেখান।

এ প্রসঙ্গে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তদন্তসাপেক্ষে যদি এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন