কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম ও তার মায়ের নামে ফেসবুক ও টিকটকে একাধিক ফেক আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে।
এসব অ্যাকাউন্টের কয়েকটি অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর এবং মৃত্যুর পর খোলা হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দেখা গেছে। আবার কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই চালু থাকলেও পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন করে অপ্রতিম ও তার মায়ের নাম যুক্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অপ্রতিমের নামে খোলা কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ও ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টে অপ্রতিমের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃত্রিম দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাকাউন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিছু অ্যাকাউন্ট অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর এবং তার মৃত্যুর পর তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই সচল ছিল। পরবর্তী সময়ে এসব অ্যাকাউন্টের নাম পরিবর্তন করে অপ্রতিম ও তার মায়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টগুলো কারা পরিচালনা করছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে অপ্রতিমকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে তা আমি মেনে নেব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তার শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? কেন আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হলো?’
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

