চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাদের পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও করতে হচ্ছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদেও শূন্যতা রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে পদায়নের জন্য ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা যাবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদেও সংকট রয়েছে। বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক সংকট রয়েছে। বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় সেখানে সাময়িকভাবে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেপুটেশনের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও কিছু বিদ্যালয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, গত দুই-তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে রিডিং পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়নি। বর্তমানে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।
সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো সিটিজেন চার্টার নতুন করে স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত বিলবোর্ড সংস্কার ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং বা দুগ্ধদান কেন্দ্র স্থাপনের কাজও প্রক্রিয়াধীন। অফিসের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে ছয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ জন সহকারী শিক্ষকের প্রয়োজনীয় বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত করার প্রশাসনিক কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে শূন্য বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ আমার দেশকে বলেন, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি ৪৬১ জন নতুন শিক্ষক চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। আগামী ১১ অক্টোবর তাদের বিভিন্ন উপজেলায় পদায়ন করা হবে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে ১০ জন নতুন শিক্ষক পদায়ন করা হবে। এতে উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


