বিদ্যুতের সার্ভার বিপর্যয়ে সীতাকুণ্ডে জনদুর্ভোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

বিদ্যুতের সার্ভার বিপর্যয়ে সীতাকুণ্ডে জনদুর্ভোগ
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রিপেইড বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় সার্ভার বিপর্যয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। টানা দুই দিন ধরে চলমান এ সমস্যায় উপজেলার কুমিরা থেকে দারগাহাট পর্যন্ত ৪০ হাজার প্রিপেইড গ্রাহক অনিশ্চয়তা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়বকুণ্ড আবাসিক বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন প্রিপেইড গ্রাহকেরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে মিটারে টাকা রিচার্জ করতে গেলে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সার্ভারের ত্রুটির কারণে সেই অর্থ মিটারে যোগ হচ্ছে না এবং কোনো রিচার্জ টোকেনও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে একদিকে গ্রাহকদের টাকা আটকে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জানা গেছে, অনেক গ্রাহক রাতভর একাধিকবার রিচার্জের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মিটারের জরুরি লোন সুবিধা ব্যবহার করে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তবে সেই লোন শেষ হয়ে গেলে তাদের সামনে অন্ধকারে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ সদস্য থাকা পরিবারগুলো। বিদ্যুৎ চলে গেলে নিত্যদিনের কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় কোনো কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পুরো সেবা ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লেও দ্রুত সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বাড়বকুণ্ড আবাসিক বিদ্যুৎ অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, কুমিরা থেকে দারগাহাট পর্যন্ত ৪০ হাজার গ্রাহক সার্ভার বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকে সরাসরি অফিসে এসে তাদের মিটারে বিল পরিশোধ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, গত দুই দিন ধরে প্রিপেইড মিটারের সার্ভার সমস্যার কারণে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ চলছে। খুব শিগগিরই সার্ভার সচল হবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে, একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের ওপর পুরো প্রিপেইড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্ভরশীল হলেও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন কোনো কার্যকর ব্যাকআপ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাদের মতে, ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প সেবা কাঠামো নিশ্চিত করা উচিত ছিল।

তাদের ভাষায়, একটি সার্ভার বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে যদি হাজার হাজার গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েন, তাহলে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারও প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন