বন বিভাগের আপত্তিতে ২২ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ

বন বিভাগের আপত্তিতে ২২ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া থেকে শাপলাপুর পর্যন্ত ৪ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণের কাজ বন বিভাগের আপত্তিতে নির্মাণকাজ বন্ধ। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়কটি নির্মাণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সংরক্ষিত বন আইনের বিষয়টি সামনে এনে কাজে বাধা দিয়েছে বন বিভাগ। ফলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জে এম ঘাট-কালারমারছড়া সড়কের চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে পূর্ব ফকিরজুম পাড়ার নবী বলেন, গত ৭০ বছর ধরে ব্যবহৃত এই আঞ্চলিক পথটি পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশ ভেঙে যাওয়ায়, এখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের জে এম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশে এলজিইডি নির্মাণকাজ শুরু করেছিল। তবে বন বিভাগের বাধার মুখে কাজ বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। ইতোমধ্যে সড়কের কিছু অংশে কংক্রিট ঢালাই এবং কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। শাপলাপুরের বাসিন্দা জাকের হুসাইন বলেন, বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর। রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কিংবা কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এদিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গত ২ জুলাই বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বন বিভাগ, এলজিইডিসহ সরকারের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চিঠি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়, মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড় বনসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং উপজেলার ১২ নম্বর পাহাড় মৌজা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সুলতান বলেন, জনস্বার্থে সড়কটি প্রয়োজন।

এলজিইডি মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, এটি এলজিইডির গেজেটভুক্ত সড়ক। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে মানুষের চলাচলের জন্য আগের পথ থাকতে পারে । কিন্তু সেটিকে পাকা সড়কে রূপান্তরের সুযোগ আইন দেয় না। এতে বনভূমিতে অনুপ্রবেশ বাড়বে, গাছপালা ও বন্যপ্রাণী হুমকির মুখে পড়বে।

কালারমারছড়া থেকে শাপলাপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির দায়ের করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত আগামী দুই মাসের জন্য এই নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন