ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য রমজান মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মিয়া গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক । আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ধরমন্ডল এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামায়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

