ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসপির পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া চার দফা:
১. আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অপ্রতিমের হত্যাকারীদের বিচার ও ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
২. কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং কোতোয়ালি ও সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।
৪. রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্পিতা রায় বলেন, ‘পুলিশ সুপার শুক্রবার রাতে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে আমার ভাই ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ দেখতে হতো না। আমরা অথর্ব পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের পদত্যাগ চাই।’
শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, ‘এই পুলিশ সুপার নাকি মেডেল পেয়েছেন, কীভাবে পেলেন তা বুঝতে পারছি না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। আমরা অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির নিশ্চিতের আশ্বাস চাই।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার দোকানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা। একই সঙ্গে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার তথ্যও জানিয়েছেন তিনি। বিষয়গুলোর সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন ড. নাহিদা বেগম।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে কুবির ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার তিনি নিখোঁজ হয়েছিল।
রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে রোববার রাতে সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

