লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পর্যাপ্ত স্থায়ী বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় ঈদের ছুটিতে মানুষ ভিড় করছেন মেঘনা নদীর পাড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের সমাগম।
উপজেলার আলতাফ মাস্টারের ঘাট, সাজু মোল্লার ঘাট, জ্বীনের মসজিদ এলাকা, দালাল বাজার খোয়া সাগর দীঘির পাড়, দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও চৌধুরী বাড়িসহ মেঘনা নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই ছুটে আসছেন নদীপাড়ে। কেউ মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগে ব্যস্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্তগুলো ধারণ করছেন। নদীর তীরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও ছিল ব্যাপক ভিড়।
স্থানীয়দের উদ্যোগে কোথাও কোথাও নাগরদোলা ও ছোটখাটো বিনোদন ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে। নদীতে নেমে সাঁতার কাটতেও দেখা গেছে অনেককে। চরবংশী, টুনুরচর, চরইন্দ্রুরিয়া, চরজালিয়া এলাকায় প্রায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ থাকে ।
উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের এসব এলাকায় একসময় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল বিনোদন ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার মেঘনার তীরে বাঁধ নির্মাণ, মাছের আড়ৎ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে গত দুই বছরে ভয়াবহ নদীভাঙনে এসব স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।
চাঁদপুরের চরভৈরবী এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মেঘনার তীরের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। ঈদের পরে পরিবার নিয়ে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারাও বেশ আনন্দ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “ঈদের সময় মানুষের চাপ বেশি থাকে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, রায়পুরে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে মানুষকে আর দূরে যেতে হবে না এবং এটি পর্যটন সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

