দেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে খ্যাত কক্সবাজার। এখানকার পর্যটন স্পটগুলোতে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ ঘুরতে আসে । কোনো উপলক্ষে ছুটি মিললেই পর্যটকদের ঢল নামে এই শহরে। এবারের ঈদের ছুটিতেও ১০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে বলেই আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এই জেলা শহরের প্রধান আকর্ষণ পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। সমুদ্রের লোনা পানির ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করতে ছুটে আসেন লাখো মানুষ।
শুধু এখানকার সমুদ্র সৈকতই মানুষকে আকৃষ্ট করে না। এখানকার পাহাড়, দ্বীপ আর পর্যটকদের জন্য সাজানো নানা ধরনের স্পট তাদের টেনে নিয়ে আসে। আর সেই মানুষদের স্বাগত জানাতে সবসময় প্রস্তুত থাকে ৫ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট। আগামী সামনে রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেনোভেশনের কাজ চলছে। ঈদের ছুটিতে এই শহর টানা ১০-১২ দিন জমজমাট থাকবে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজারের রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার লম্বা বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। পর্যটক ও ভ্রমণপিয়াসিরা এই সমুদ্রের গর্জন দেখতেই এখানে ছুটে আসেন। কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ পর্যন্ত এই সমুদ্র সৈকত বিস্তৃত। এই সমুদ্রের আকর্ষণে কক্সবাজারে সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। আর ঈদকে সামনে এই সমাগম সবচেয়ে বেশি থাকে।
মেরিন ড্রাইভ
কক্সবাজারে রয়েছে সুদীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ। এই সড়কটি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। সড়কটির একপাশে বিশাল সমুদ্র, আর অন্যপাশে পাহাড়ের সারি। এই সড়ক পর্যটকদের আকর্ষণের আরেক নাম। গাড়ি নিয়ে মেরিন ড্রাইভ হয়ে যাওয়া যায় টেকনাফ পর্যন্ত। যাওয়া আসার পথে পাহাড় আর সমুদ্র মানুষকে আকৃষ্ট করে। খোলা জিপে এই সড়কে ভ্রমণ অনন্য ও মনোমুগ্ধকর।
ইনানি, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকত
কক্সবাজার শহরের সমুদ্র সৈকতের মূল পয়েন্ট ছাড়াও আরও বেশ কিছু সৈকতের স্পট। সেগুলোর মধ্যে আছে হিমছড়ি, ইনানি, সোনার পাড়া, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। পর্যটকরা এই স্পটগুলোতেও ঘুরতে খুব পছন্দ করেন। প্রতিটি স্পটেই মেরিন ড্রাইভ হয়ে যেতে হয়।
ভিন্ন পর্যটন
সমুদ্র সৈকত ছাড়াও পর্যটকদের জন্য আরও বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট রয়েছে। সেগুলো হলো দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া সমুদ্র সৈকত, কুতুবদিয়ার বাতিঘর, চকারিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামুর ঐতিহাসিক বৌদ্ধমন্দিরগুলো, রামু রাবার বাগান আর টেকনাফের ঐতিহাসিক প্রেমের নিদর্শন মাথিনের কূপ।
কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা এসব স্পটগুলোতে যেতেও পছন্দ করেন।
সেন্টমার্টিন
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কক্সবাজারের দ্বিতীয় প্রধান পর্যটন স্পট এই দ্বীপ। তবে ঈদের ছুটিতে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার উম্মুক্ত সুযোগ নাই। সরকারের বিধিনিষেধের কারণে কেবল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে পর্যটকরা ইচ্ছা করলে ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারেন। যদিও ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য বড় জাহাজের ব্যবস্থা থাকে।
এদিকে সামনের ঈদের ছুটিকে ঘিরে প্রতিটি পর্যটন স্পটেই সাজসজ্জা ও নানা প্রস্তুতি চলছে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ ও নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

