মূল্যায়নের আগেই হারিয়ে গেল কারিগরি বোর্ডের ১০০ উত্তরপত্র

মূল্যায়নের আগেই  হারিয়ে গেল কারিগরি বোর্ডের ১০০ উত্তরপত্র

শিক্ষকের অসাবধানতায় মূল্যায়নের আগেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১০০ শিক্ষার্থীর ফাইনাল পরীক্ষার উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্রগুলোর মূল্যায়ন এবং ফলাফলে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মূল্যায়নের জন্য আনা প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতের পথে হারিয়ে ফেলেছেন ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক। খাতাগুলোর সন্ধান না মেলায় শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে।

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি সূত্র জানায়, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক উত্তরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য কারিগরি বোর্ড থেকে নিয়ে এসেছিলেন। ভুলক্রমে তিনি মহিপাল থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মোড়ে আসার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় খাতাগুলো ফেলে চলে যান।

এই ঘটনায় সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উত্তরপত্র হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন পলিটেকনিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক লিও মো. মেহেদী হোসাইন।

ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রোববার আনুমানিক সকাল ১০টায় মহিপাল থেকে হাসপাতাল মোড় সিএনজিতে আসার সময় ফাইনাল পরীক্ষার ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে গেছে। যদি কেউ পেয়ে থাকেন, দয়া করে জানাবেন। উপযুক্ত সম্মানি দেওয়া হবে। পোস্টে যোগাযোগের জন্য ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করেন তিনি।

পরে পোস্টে উল্লিখিত তার মুঠোফোন নম্বরে কল করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোথাও পলিটেকনিকের খাতা হারানোর কথা উল্লেখ করিনি। ফেসবুক পোস্টটি আমি ডিলিট করেছি। এর বেশি তথ্যের প্রয়োজন হলে পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। তবে পলিটেকনিক সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেও ওই শিক্ষকের পরিচয় জানাতে কেউ রাজি হননি।

এ বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মেহের উল করিম, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং মো. মাঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আশরাফুল হক বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো উত্তরপত্র হারিয়ে ফেলা অবশ্যই দুশ্চিন্তার বিষয়, যা আমাদের চূড়ান্ত ফলাফলে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনায় শিক্ষকের স্পষ্ট গাফিলতি রয়েছে।’

ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী আজম বলেন, রোববার সকালে সিএনজিতে করে আসার সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক ভুলবশত উত্তরপত্রগুলো রেখে চলে আসেন। এখনো ওই শিক্ষক উত্তরপত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ওই শিক্ষকের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. জাহেদুল কবির খান জানান, একজন শিক্ষক কারিগরি বোর্ডের ১০০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য এনেছিলেন। ভুলক্রমে উত্তরপত্রগুলো তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশায় রেখে চলে আসেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন