চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়। চিকিৎসকরা ডেঙ্গু রোগীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য ডাব, মাল্টা, কমলা ও লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিলেও চড়া দামের কারণে তা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে, হাসপাতালের বেডে রোগীর চাপ, অন্যদিকে ফলের বাজারের উত্তাপ—দুই দিক সামলাতে নাভিশ্বাস উঠছে রোগীর স্বজনদের। ডেঙ্গুর এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় ফলের বাড়তি দাম যেন আক্রান্তদের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে আশপাশের জায়গাগুলোতে ডাব বিক্রেতাদের কাছে ভিড় জমাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। তবে দামে স্বস্তি নেই। এক মাস আগেও যে ডাব বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, তা এখন আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটে ডাব কিনতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন জানান, একেকটা ছোট ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। আর একটু বড় হলেই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দাম হাঁকছেন বিক্রেতা। আমার মা এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ডাব খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে ডাক্তার। কিন্তু এই বাড়তি দামের কারণে প্রতিদিন ডাব কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
শুধু ডাব নয়, দাম বেড়েছে মাল্টা ও কমলার। মাসখানেক আগে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হতো ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, বর্তমানে তা জায়গাভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকার বেশি। কমলার দামও একইভাবে বেড়ে ৩০০ টাকা থেকে পৌঁছেছে ৩৬০ টাকায়। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এসব ফল কিনতে গিয়ে রোগীর স্বজনরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
বিক্রেতারা মূল্যবৃদ্ধির জন্য চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্য, নোয়াখালী, ভোলা, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাব সংগ্রহ করা হলেও দেড় বছর ধরে ডাবের সরবরাহ তুলনামূলক কম।
নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের সামনে ভ্যানে ডাব বিক্রি করা সাত্তার হোসেন জানান, যে পরিমাণের ডাব তার কাছে আসে তার তুলনায় ডাবের চাহিদা অনেক বেশি। সরবরাহকারীরা আগের চেয়ে প্রতি ডাবে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি চান। সে কারণে বেশি দামে ডাব বিক্রি করতে হয়।
ঢাকা বারডেম হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক রাকিবুল হোসেন জানান, ¬¬রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডেঙ্গু রোগীদের ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে বলি। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে ডাবের পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যা রোগীর পুষ্টি ও দ্রুত সুস্থতার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান নয়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে বাড়তি মুনাফা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, আমরা নিয়মিতই বাজার তদারকি করি। অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন ফলের দোকানের ভাউচার তলব করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়তি দামে বিক্রির প্রমাণ পেলে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

