কক্সবাজারে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

কক্সবাজারে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে পানবরজ নির্মাণের অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফেরার পথে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পানের ছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডসহ পাঁচ বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতরা হলেন—পানের ছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগানমালি সাইদুল ইসলাম ও মো. সাজিদ এবং ইআরটি সদস্য মিজানুর রহমান।

রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, পানের ছড়া বিটের সমিতিপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে বরজ নির্মাণের খবর পেয়ে বন বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অভিযান শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি জানান, হামলায় তিনিসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তবে নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের দলীয় পদবি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে বিস্তারিত জানেন না। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও পানবরজ নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং এ ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। বিষয়টি অনেকটা ব্যক্তিগত রেষারেষির পর্যায়ে চলে গেছে।

কক্সবাজার সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম বলেন, আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিকেলের মধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অবৈধভাবে নির্মিত পানবরজ উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে বনকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে পাঁচজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ দুজনের মাথা ফেটে গেছে এবং অন্য তিনজনের হাত ভেঙে গেছে।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে যত বড়ই ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন