চাঁদপুরের মতলব উত্তরে একটি কালভার্ট ভেঙে উধাও ঠিকাদার। দেড় বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে ১৯ ভূমিহীন পরিবার।
মেঘনা-ধনাগোদা নদীবেষ্টিত বেড়িবাঁধের একটি খাল খননের সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নড়বড়ে কালভার্টটি ভেঙে ফেলে। এরপর এটি পুনর্নির্মাণ না করায় চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গজরা ইউনিয়নের ডুবগি গ্রামের ১৯ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ।
জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে ২০১৯ সালে মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌর এলাকার কলাকান্দা ও পালালোকদি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে ১৯টি ভূমিহীন পরিবারকে ১৯টি পাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা গজরা ইউনিয়নের ডুবগি গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের ওপরের এই কালভার্ট। প্রকল্পের শুরুতে খালের ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর আগে খাল খননের সময় ঠিকাদাররা কালভার্টটি ভেঙে ফেলে। সে সময় খনন শেষে নতুন কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল পারাপারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণভাবে লম্বালম্বি একটি তালগাছ ফেলে রাখা হয়েছে। পাশেই ভেঙে পড়ে আছে পুরোনো কালভার্টের ধ্বংসাবশেষ। এভাবেই নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন খাল পারাপার হচ্ছে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, ‘খাল খননের সময় দেড় বছর আগে কালভার্টটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে আমাদের চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী সেফালী বেগম খাল পার হতে গিয়ে পড়ে পা ভেঙে ফেলেছে। এখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। আমিও কয়েকবার পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছি।’
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাল খননকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, ‘কালভার্টটি তখনই ভেঙে খালে পড়েছিল। এ কারণে খাল খনন করতে আমাদের অনেক ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া কালভার্টর নির্মাণকাজ আমরা নিইনি। তাই সে সম্পর্কে আমরা কিছু বলতে পারব না।’
মতলব উত্তর ইউএনও এবং ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে এখানে একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

