আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নোয়াখালীতে ছেলের কাছে মাংস খেতে চাওয়ায় মাকে মারধর

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে ছেলের কাছে মাংস খেতে চাওয়ায় মাকে মারধর
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীতে ছেলের কাছে মাংস খেতে চাওয়ায় মাকে মারধর করেছে ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ায় নোয়াখালীর সেনবাগে সমালোচনার ঝড় বইছে।

এলাকার চেয়ারম্যান এ অপরাধে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে স্থানীয় ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে মানুষের উপস্থিতিতে ওই যুবককে গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে বাজারে ঘোরান। ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের চিলাদি গ্রামে। অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ সহিদ (৩৫)।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিলে ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে ধরে এনে গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে এ শাস্তি দেন।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িতে রাতে ছাগলের মাংস রান্না করা হলেও সহিদ তার বৃদ্ধ মাকে কোনো খাবার দেননি। ক্ষুধার্ত মা খাবার চাইলে সহিদ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী মা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের কাছে মোখিক অভিযোগ করলে গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) মাধ্যমে সহিদকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। পরে সকালে ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শাস্তিস্বরূপ সহিদের গলায় একটি পানিভর্তি কলস বেঁধে দেওয়া হয় এবং তাকে পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করা হয়। এ সময় তিনি উচ্চ স্বরে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওই বৃদ্ধার তিন ছেলে। অভাবের সংসার। গেল পরশু রাতে সাহরির সময় তিনি ছাগলের মাংস খেতে চেয়েছিলেন ছেলের কাছে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে তার মাকে মারধর করেন। মহিলা সকালে আমার বাড়িতে এসে কান্না করে মৌখিক ঘটনা বলে। যখন ঘটনাটি বলছিল, তখন বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। চৌকিদারের মাধ্যমে ছেলেকে ডাকানো হয়।’

ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে তাকে পানিভর্তি কলস গলায় ঝুলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশে ঘোরানো হয়। তাকে সতর্ক করা হয় তার মাকে ভরণপোষণ দিতে। আর কখনো গায়ে হাত তুললে পুলিশে সোপর্দ করা হবে বরে শাসানো হয়। তিনি আরো বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা বা নির্যাতন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইনি দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং অন্যদের শিক্ষা দিতে তাৎক্ষণিক এই শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান সোমবার দুপুর ১২টার সময় বলেন, ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেননি। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যান বরাবর মৌখিক অভিযোগ করেছেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে সালিশ করেছেন। তিনি শাস্তিস্বরূপ পানিভর্তি কলস গলায় ঝুলিয়ে প্রদক্ষিণ করান। তবে এভাবে দৃশ্যমান শাস্তি না দিয়ে অন্যভাবেও শাস্তি দেওয়া যেত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন