ছাত্রদল নেতার গুলিতে আহত যুবদলকর্মীর মৃত্যু

ছাত্রদল নেতার গুলিতে আহত যুবদলকর্মীর মৃত্যু
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ছাত্রদল নেতার গুলিতে আহত যুবদলকর্মী আবু ইউসুফ জীবন (২৭) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত জীবন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে তাঁর ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।

জীবনের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকরাম বাবু ও তাঁর সহযোগীরা এ হামলায় জড়িত। ইকরাম বাবু চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নিহত জীবন মৃত্যুর আগে হাসপাতালে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে ইকরাম বাবু ও আরমান নামের দুজনের বিরুদ্ধে হামলা ও গুলি চালানোর স্পষ্ট অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, মঙ্গলবার রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরবর্তীতে বুধবার তাঁর অস্ত্রোপচার করে ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “পায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জীবনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে তাঁর মৃত্যু হয়।”

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় জীবনের মা বাদী হয়ে গত বুধবার জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ একটি মামলা দায়ের করেছেন। জীবনের মৃত্যুর পর এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্যমতে, জীবন পূর্বে মহানগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জুয়েলের পক্ষ ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের বলয়ে যোগ দেন। এরপর থেকেই জুয়েলের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় এবং এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের দাবি।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিল্লুর রহমান জুয়েল। তাঁর দাবি, আহত জীবন ও হামলাকারীরা স্থানীয় এবং তাঁদের মধ্যকার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক কোন্দলের পাশাপাশি 'মেহেদী' নামের এক যুবকের সঙ্গে জীবনের পূর্ববিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন