ফেনীতে অলস পড়ে আছে ৯ কোটি টাকার সেতু

এসএম ইউসুফ আলী, ফেনী

ফেনীতে অলস পড়ে আছে ৯ কোটি টাকার সেতু
দাগনভূঞায় সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না ৯ কোটি টাকার সেতু। ছবি: আমার দেশ

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর সংযোগ সেতু মই দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। নির্মাণের ১৫ মাস পরও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে ৯ কোটি টাকার এই সেতু ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছোট ফেনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। টেন্ডারের মাধ্যমে সেতু নির্মাণকাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছালেহ আহম্মদ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুটির ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ করে তারা। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু। তবে এর দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। সেতুটির এক পাশে ফসলি জমি, অন্য পাশে বসতঘর। আট ফুট উঁচুতে নির্মিত হওয়ায়, সেতুটি নির্মাণের ১৫ মাস পরও যান চলাচলের অনুপযোগী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারেও একমাত্র ভরসা কাঠ-বাঁশের মই।

বিজ্ঞাপন

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সেতুর একপাশে কৃষিজমি ও অন্যপাশে ঘরবাড়ি থাকায় ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার কারণে সেতুর সড়ক সংযোগ করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দাঁড়িয়ে থাকা সেতুর দুই পাশে কাঠ ও বাঁশের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন তারা। যার কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকেই।

স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হওয়ার খবরে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এতে সেতু আমাদের কোনো কাজে লাগছে না। কাঠ-বাঁশের সেতু বেয়ে চলাচলের সময় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি জানান তিনি।

মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার বলেন, ‘বর্ষার আগে দুই পাশের রাস্তা নির্মাণ না হলে, মাতুভূঞা ও বেকের বাজারগামী লোকজন ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন,পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচনের সময় ব্রিজটি পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু এখনো ব্রিজের কাজের কোনো লক্ষণ দেখছি না। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। জায়গার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সময় বাড়ানোর জন্য এলজিইডির চিপ ইঞ্জিনিয়ার সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন। এটি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। যদি সময় বৃদ্ধি করা যায়, তবে দ্রুতই এর বাকি নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম জানান, ‘রাস্তা না থাকলে সেতু জনগণের কোনো উপকারে আসবে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন