ফরিদগঞ্জে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার মহোৎসব, জড়িত প্রভাবশালীরা

উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)

ফরিদগঞ্জে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার মহোৎসব, জড়িত প্রভাবশালীরা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বোরো চাষ হয়নি, এমন ফসলি জমির টপ সয়েল কেনার হিড়িক পড়েছে। এই উর্বর অংশ কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। আগামীকে এখানে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

এসব মাটি কেটে ট্রাক্টরে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। কৃষিবিদরা বলছেন, কয়েক বছর এসব জমিতে ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হবে না। এসব মাটি ইটভাটা ও নতুন বাড়ির ভিত্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাটি কেনাবেচার এই চক্রে জড়িত স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরাও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একশ্রেণির ট্রাক্টর মালিক ও চালক কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে মাটি কিনে নিচ্ছেন। প্রতি ট্রাক মাটি তারা কিনছেন ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়।

উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও, পাড়া গাব্দেরগাঁও গ্রাম, পাইকপাড়া ইউনিয়নের শাহাপুর, ইছাপুরা, দায়চারা, কড়ৈতলী চৌরাস্তা, ভাওয়াল গ্রামে, চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের গুপ্তের বিল, আলোনিয়া গ্রাম, গুপ্টি ইউনিয়নের গল্লাক, খাজুরিয়া গ্রাম, সুবিদপর ইউনিয়নের কামতা, সুবিদপুর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমির মাটি কাটার রমরমা ব্যবসা চলছে।

আলোনিয়ার গুপ্তের বিল এলাকায় দেখা গেছে, কৃষি জমিতে দুই থেকে আড়াই ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে

নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই কারবারে জড়িত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা। ফলে অসহায় সাধারণ কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, মাটি কাটার কারণে আগামীতে কৃষির আবাদ হুমকিতে পড়বে। তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন