চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় তদন্তে গাফিলতি পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। শনিবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্প সচিব বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনেই তদন্ত কমিটিকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। তদন্তে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শুক্রবার ছুটির দিনে কেন শ্রমিকরা কাজ করছিলেন, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের কেন দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রতিবেদনেই প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিএসবিআরএর সদস্য সচিব নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করবে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি বা গাফিলতি ছিল কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট বিএসবিআরএর প্রেসিডেন্ট মো. মহসিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক স্মারকের মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসবিআরএর টেকনিক্যাল উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরীকে।
কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসবিআরএর উপদেষ্টা নাঈম শাহ ইমরান, টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট ক্যাপ্টেন সিরাজুল মওলা এবং এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান। সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বিএসবিআরএর সচিব নাজমুল ইসলাম।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

