সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ চরমে

অফিস সকাল ৯টায়, নির্বাহী প্রকৌশলী আসেন ১২টায়

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

অফিস সকাল ৯টায়, নির্বাহী প্রকৌশলী আসেন ১২টায়
ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হক অফিসে উপস্থিত হয়েছেন প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে। রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরকারি দপ্তরগুলোতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তা অনুপস্থিত। অফিসে বিভিন্ন কাজের জন্য অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীরা দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর দেখা মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সোনার হরিণের মতো বসের দেখা পেয়ে সবাই ছুটে আসছেন তার কাছে।

এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে থেকে এভাবে অবহেলার মাধ্যমে সবাইকে ভোগান্তিতে রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এছাড়া গত ১২ এপ্রিল (রোববার) নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৌশলী মো. শফিউল হককে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। অধিদপ্তরের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি অধিকাংশ সময়ই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাননি।

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক অলিউল্লাহকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান, স্যার তো আজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেননি। উনি কুমিল্লায় অফিস করবেন। বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অফিস করেন ।

অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রকল্পসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর এবং অনুমোদনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে যেতে হয়। স্বাক্ষরের অভাবে অনেক কাজ আটকে থাকে, নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় অফিস কর্মকর্তা থেকে সেবাগ্রহীতা সবাইকে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষ পাঁচ মিনিট দেরি করলে কাজ হয় না, অথচ সরকারি কর্মকর্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি করলেও কোনো জবাবদিহি নেই।

সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় মেনে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে জুম মিটিংয়ের নামে প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় সাংবাদিকদের। এ সময় ঠিকাদার ঢুকতে অনুমতি পেলেও সাংবাদিকদের প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে ১০টায় এসেছি । দীর্ঘ এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নির্বাহী প্রকৌশলীর দেখা পাইনি । সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় উনি অফিসে দেরিতে আসেন এবং সাইটে আছে বলে অফিসে ঠিক সময়ে আসেন না ।

নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মো. তারেক বলেন, স্যার তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাইডে থাকেন। আমাকে ফোন দিয়ে যেখানে যাইতে বলেন সেখানে গিয়ে নিয়ে আসি। আজকে কোন জায়গা থেকে রিসিভ করেছেন জানতে চাইলে বিষয়টি এরিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শফিউল হক বলেন, ‘বিকেলে আসুন । বিকেলে এ বিষয়ে কথা বলব । আমি এখন ব্যস্ত আছি ।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন