স্পিডবোট বন্ধ থাকায় জাহাজমুখী সন্দ্বীপের যাত্রীরা

শামসুল আজম মুন্না, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)

স্পিডবোট বন্ধ থাকায় জাহাজমুখী সন্দ্বীপের যাত্রীরা

চট্টগ্রামের সঙ্গে সন্দ্বীপের প্রধান নৌপথ কুমিরা-গুপ্তছড়ায় স্পিডবোট চলাচল ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে জাহাজমুখী হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল ৭টায় গুপ্তছড়া ঘাটে গাছুয়ার বাসিন্দা রহিম বলেন, কোনো ঝুঁকি ছাড়াই জাহাজে অনেকটা আগেই ঘাটে এসে পৌঁছেছেন। তার মতো শত শত যাত্রী আজ জাহাজমুখী। মগধরা থেকে আসা শিক্ষার্থী নাফিসার কণ্ঠেও ছিল একই সুর। স্পিডবোট না থাকায় কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, স্পিডবোটের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দুই-তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট না করে এক ঘণ্টায় আরামদায়ক জাহাজে আসা কি ভালো নয়?

যেখানে স্বাভাবিক সময়ে স্পিডবোট চললে জাহাজে যাত্রী হতো মাত্র ৫ থেকে ১০ জন, সেখানে চিত্রটি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে প্রায় ৩০৮ জন যাত্রী নিয়ে এমভি মালঞ্চ গুপ্তছড়া ঘাট থেকে বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বাঁশবাড়িয়া ঘাটেও ছিল একই চিত্র। সেখান থেকে ৩৩৩ জন যাত্রী নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় সন্দ্বীপে ফিরে আসে জাহাজ এমভি মালঞ্চ। মঙ্গলবারও উভয় পাশে মোট যাত্রীসংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক।

বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজটি প্রতিদিন একটি মাত্র ট্রিপ দিচ্ছে, যা সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সকাল ৮টায় এবং বাঁশবাড়িয়া থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে যায়।

ঘাটের স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারাও চান জাহাজে নিয়মিত যাত্রী হোক এবং এই পরিষেবা টিকে থাকুক। কারণ, বর্ষা মৌসুমে যখন উত্তাল সমুদ্রের কারণে স্পিডবোট বন্ধ থাকে, তখন এই জাহাজই হয়ে ওঠে সন্দ্বীপবাসীর একমাত্র ভরসা। জাহাজ না থাকলে বর্ষায় সাধারণ মানুষের দুর্দশার কোনো সীমা থাকে না।

গুপ্তছড়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বশীল শওকত আকবর পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজের ট্রিপ বাড়িয়ে কমপক্ষে দুটি করা প্রয়োজন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, যাতে গুপ্তছড়া ও বাঁশবাড়িয়া উভয় ঘাট থেকেই প্রতিদিন দুটি করে ট্রিপ নিশ্চিত করা হয়। এতে যেমন যাত্রী ভোগান্তি কমবে, তেমনি বিআইডব্লিউটিসি-ও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ট্রিপ বাড়ানোর দাবি প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) কে এম এমরান জানান, স্পিডবোট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সুবিধার্থে জাহাজের ট্রিপ বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। জোয়ার-ভাটার সময়সূচি সমন্বয় করে দ্রুতই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে ট্রিপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা আরো জানান, নৌ-রুটের নাব্য সংকটের কারণে বাড়তি ট্রিপ পরিচালনা করা কতটা কার্যকর বা সম্ভব হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...