পরশুরামে অস্বাভাবিক দামে গরুর বাজার, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ পৌরসভার অধীনে সাতটি বাজারের ইজারা দেওয়া হয়েছে। গরুর বাজার ৬০ লাখ, সিএনজি স্ট্যান্ড ২০ লাখ টাকা দামে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৫ সালের তুলনায় তিন গুণ বেশিতে গরুর বাজার এবং চার গুণ বেশি দামে সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা হওয়ার বিষয়টি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চড়া দামে ইজারার ফলে গবাদি পশুর দাম ও গাড়িভাড়া বাড়বে। এতে ক্রেতা ও যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়তে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বুধবার পরশুরাম পৌরসভার গোহাট ও সিএনজি-বাস স্ট্যান্ডসহ আটটি বাজারের দরপত্র সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে পরশুরাম বাজার স্থায়ী গো-হাট (ছাগল বাজারসহ) সর্বোচ্চ দর ওঠে ৬০ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকা। গতবার ডাকমূল্য ছিল ২০ লাখ ৯১ হাজার ৫৫০ টাকা।
পরশুরামে তরকারি ও তোহা বাজার এবং বাঁশ বাজারের সর্বোচ্চ দর ২২ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৫ টাকা, গত বছর ছিল ৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মাছ ও শুঁটকির বাজার ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ টাকা, গতবার ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা। হাঁস, মোরগ ও কবুতরের বাজার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, গতবার ছিল ৯৬ হাজার টাকা।
মাংসের বাজার, কসাইখানা ও চামড়ার বাজার ৭ লাখ, গতবার ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা,গতবার ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। বাউরখুমা বিলোনিয়া স্থলবন্দরসংলগ্ন স্ট্যান্ড ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, গতবার ছিল ১ লাখ টাকা। উত্তর গুথুমা চৌধুরী বাজার ও তোহা বাজার ৩০ হাজার টাকা, গতবার ছিল ৩০ হাজার ১৫০ টাকা।
গুথুমা চৌধুরী বাজার ছাড়া বাকি সাতটি বাজার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি দামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যে ইজারা হওয়ায় অতিরিক্ত খাজনা (হাসিল) আদায়ের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ক্রেতা, বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ইজারামূল্য, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং হাট তৈরির খরচ মিলিয়ে ইজারাদারদের লোকসান গুনতে হতে পারে।
এদিকে এসব দরদাতার পে অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে দরের সঙ্গে
আরো ২৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স ও আয়করের টাকা যোগ হবে। উচ্চমূল্যে ইজারা হওয়ায় অতিরিক্ত খাজনা (হাসিল) আদায়ের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ইজারামূল্য, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং হাট তৈরির খরচ মিলিয়ে ইজারাদারদের লোকসান গুনতে হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইজারাদার বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে, সেটা বলতে পারব না। আমরা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কথা চিন্তা করে ‘সহনীয়’ মাত্রায় খাজনা আদায় করব। অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হবে না।’
পরশুরাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাফায়াত আকতার নূর জানান, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট ছাড়াই দরপত্র খোলা হয়েছে। উচ্চ দরদাতাদের পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে নিয়মানুযায়ী তারা ইজারা পাবেন। দরদাতাদের কাগজপত্র যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

