নোয়াখালী-২ সেনবাগে বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক ও বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে দাওয়া-পালটা দাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন নেতাকর্মী সমর্থক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পক্ষদ্বয় একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
রোববার সন্ধা পৌনে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেনবাগের কাবিলপুর ইউনিয়নের দিলদার মার্কেট ও সেনবাগ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, রোববার বিকেল থেকে সেনবাগের কাবিলপুর ইউনিয়নে ছমির মুন্সিরহাটে কাপ পিরিজ মার্কার সমর্থনে গণসংযোগ করেন তিনি।
গণসংযোগ শেষে সেনবাগ বাজারে যাওয়ার সময় সন্ধা পৌনে সাতটার দিকে দিলদার মার্কেট এলাকায় ধানের শীষের সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটানায় তার গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে যায়।
প্রতিবাদে ঘটনার এক ঘন্টা পর আমার সমর্থকরা সেনবাগ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করলে সেখানেও জয়নুল আবদিন ফারুকের সমর্থকরা আমার লোকের ওপর হামলা চালায়। উভয় হামলায় অন্তত ১০ জন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবাদে কাজী মফিজের সমর্থকরা সেনবাগ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় উভয় গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা দাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন কর্মী সমর্থক আহতের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় বিএনপি প্রার্থী তথা ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের ঘাড়িতে হামলা ও ভাঙছুেরর ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আংশিক) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্দেশে তার সমর্থকরা সেনবাগ বাজারে আমার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
এ সময় আমার ৮জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতরা হলেন সেনবাগ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক লিয়াকত হোসেন খোকন, পৌর বিএনপি'র যুগ্ন আহবায়ক সানদন হোসেন রাজু, ছাত্রদল নেতা গল্প, ছাত্রদল নেতা প্রান্তসহ ৮জন।
আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর তার কর্মী সমর্থকরা
ধাওয়া করলে কাজী মফিজ তার লোকজন নিয়ে পিছু হটে বাজার থেকে চলে যায়।
এই ঘটনায় সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার রোববার রাত ১০টার সময় জানান, বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সন্ধ্যায় দাওয়া পালটা দাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আনসার ভিডিপির সদস্যদের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেনবাগ বাজারে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান করছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

