‘ভিপি নুরের নির্দেশ—৫ লাখ টাকার কম হবে না’—এমন একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এর একদিনের মাথায় মঙ্গলবার বিকেলে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলাটি করেন জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান চৌধুরী। মামলায় ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করার পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বাদী সোলাইমান চৌধুরী বলেন, ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফারুক হোসেনের এই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে আলোচনা শুরু হয়। এতে ভিপি নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। এ কারণে আমি বাধ্য হয়ে এই মামলা করেছি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ জানান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও তৎকালীন সময়ের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্টের কাজ, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ প্রাথমিক খরচের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায়। তবে এই অডিও রেকর্ডের সত্যতা বা পূর্ণাঙ্গতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা কোনো ধরনের সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।
এদিকে ঘটনার পর গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসেনকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকেও (এসপি) বলা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর কণ্ঠের ভয়েস কাটছাট ও সম্পাদনা করে এই ভুয়া অডিও তৈরি করেছে।
ফারুক হোসেন বলেন, আমার এলাকার সাকিব নামের এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আমি ৫ হাজার টাকার কথা বলেছিলাম। সেই ৫ হাজার টাকার অডিওকেই প্রযুক্তির সাহায্যে ৫ লাখ বানানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

