কুমিল্লায় প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ৫ শিক্ষকের বদলির আবেদন

কুমিল্লায় প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ৫ শিক্ষকের বদলির আবেদন

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফজর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়টির পাঁচ সহকারী শিক্ষক। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অধীনে কাজ করতে নিরাপত্তাহীনতা ও চরম অস্বস্তি বোধ করার কথা জানিয়ে তারা নিজেদের অন্যত্র বদলির আবেদন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়া এক লিখিত স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা এই গুরুতর অভিযোগ ও বদলির দাবি জানান।

আবেদনকারী পাঁচ সহকারী শিক্ষক হলেন—অনামিকা রানী ভৌমিক, মাহামুদা আখতার, নুরুন্নাহার, কানিজ ফাতেমা ও মারজাহান আক্তার।

আবেদনে শিক্ষকেরা উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ৪-৫ বার অনৈতিক, অশালীন ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তারা গভীর উদ্বিগ্ন।

আবেদনে আরো বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের কথিত অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিওচিত্র দেখে শিক্ষকেরা চরম লজ্জিত ও আতঙ্কিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কার কথা জানিয়ে শিক্ষকেরা ওই প্রধান শিক্ষকের অধীনে শিক্ষকতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজেদের সম্মান ও পেশাগত নিরাপত্তা বিবেচনায় দ্রুত অন্যত্র বদলি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে এক নারীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তার ঘরে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ওই নারীসহ তাকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ সময় উপস্থিত জনতা ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করেন। এর আগেও নারীঘটিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিতর্ক ও অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা ও নারীসহ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। এরপর আমি ব্যস্ত আছি জানিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ জানান, এমন একটি বিষয় আমরা লোকমুখে শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগটি এখনও আমার হাতে পৌঁছেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পর অতি দ্রুত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন