চেয়ারম্যান নেই। সচিব মারা গেছেন। প্রশাসকের দেখা মিলল না ইউনিয়ন পরিষদে। অথচ বাইরে অপেক্ষায় একের পর এক মানুষ—কারো কলেজে ভর্তি হতে নাগরিকত্ব সনদ দরকার, কারো প্রয়োজন বাবার মৃত্যুসনদ, কেউ আবার ভোটার হওয়ার জন্য এসেছেন প্রত্যয়নপত্র নিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাদের। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চার নম্বর ভাল্লুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চিত্র এটি। গত বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের কক্ষে ঝুলছে তালা। মেম্বারদের জন্য নির্ধারিত হলঘর খোলা থাকলেও সেখানে কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। উদ্যোক্তার ঘরেও তালা। পরিষদের ভেতরে বসে ছিলেন শুধু হিসাব সহকারী ও দুজন গ্রাম পুলিশ। বাইরে অপেক্ষা করছিলেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। তাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। তিন চারদিন ধরে পরিষদে ঘুরেও পরিষেবা মিলছে না।
ধোকড়াকুল এলাকার আব্দুল নুর কলেজে ভর্তির জন্য প্রয়োজন নাগরিকত্ব সনদ। সেই সনদের জন্য তিন দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরছেন তিনি। গত বুধবারও এসেছিলেন। কিন্তু ফিরে যেতে হয়েছে খালি হাতেই।
আব্দুল নুর বলেন, ‘নাগরিকত্ব সনদ না পেলে কলেজে কীভাবে ভর্তি হব, সেটাই বুঝতে পারছি না। কবে সনদ পাব, সেটাও কেউ বলতে পারছেন না।’ ভোটার হওয়ার জন্য প্রত্যয়নপত্র ও নাগরিকত্ব সনদ নিতে এসেছিলেন আফসানা মিমি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকেও ফিরতে হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রুহুল আমিন। তার দাবি, সচিবের মৃত্যুর পরেই কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানের বক্তব্য, সচিবের মৃত্যুর কারণেই সাধারণ মানুষকে পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি। যাতে করে মানুষ আগের মতো সেবা পেতে পারে।’
প্যানেল চেয়ারম্যান, সদস্য এবং উদ্যোক্তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও বলেন, ‘আগামীতে সেবা প্রদানকারীরা যাতে উপস্থিত থেকে সেবা দিয়ে থাকেন, সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

