লক্ষ্মীপুরে টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টি ও মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি চাপে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বলিরপোল-নাছিরগঞ্জ সড়ক ধসে খালে পরিণত হয়েছে। ফলে ১২ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের দু’গ্রাম এবং কালকিনি ইউনিয়নের আট গ্রামের মানুষের দুর্দশার এমন চিত্র দেখা যায়। মসজিদ, স্কুল, হাট-বাজারে মানুষ যেতে পারছে না। গ্রামের বিভিন্ন দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় বাসিন্দাদের। এছাড়া আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বেশকটি গ্রামও প্লাবিত হয়েছে।
অনেকেই বাধ্য হয়ে পাশের ক্ষেতের কোমর পানিতে নেমে যাতায়াত করছেন। এছাড়া মেঘনার কোলঘেঁষা, চরমার্টিন, চর কালকিনির বেশ কিছু কাঁচা সড়কও ক্ষতবিক্ষত হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ জানান, নাছিরগঞ্জ-বলিরপোল সড়কের আশেপাশে অন্তত ১২ গ্রামে ২৫ হাজার মানুষ বসবাস করে। সড়কটি ঘেঁষেই পূর্বপাশে সরু খাল রয়েছে। এতে অতি জোয়ারের সময় প্রত্যেক বারেই সড়কটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি এখন প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ খালের আকার ধারণ করেছে। এ কারণে সড়কটিতে চলাচলকারী মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সড়কের পশ্চিম পাশের কোমর পানি মাড়িয়ে কষ্ট করে সবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্কুল শিক্ষার্থীরাও জীবন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ারও সুযোগ নেই।
কালকিনির বাসিন্দা রহমান বলেন, তীব্র জোয়ারের চাপে সড়কটি ভেঙে যায়। পরে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ভাঙনটি খালে পরিণত হয়। আমাদের মসজিদের রাস্তাটিও ভেঙে গেছে। এখন আমরা মসজিদেও যেতে পারছি না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি ঠিক করে দিলে অথবা একটি কালভার্ট করে দিলে আমরা চলাচল করতে পারব।
গ্রাম্য চিকিৎসক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় একজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনি আমার ফার্মেসিতেও আসতে পারেনি। ঝুঁকি নিয়ে আমাকেই যেতে হয়েছে। কোনো প্রসূতিকে জরুরি হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করলে জনগণের দুর্ভোগ কমবে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যেতে পারবে।
চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বলেন, অতিবৃষ্টিতে সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের যাতায়াতের সমস্যা ব্যাপক দেখা দিচ্ছে। দ্রুত সড়ক মেরামতে জোর দিতে হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, সড়ক বিচ্ছিন্নের ঘটনাটি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে সরেজমিনে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে আমাকে বিষয়টি জানানোর জন্য বলা হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার হওয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করার, যেন পানি যাওয়ার ব্যবস্থা হয়। সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আমরা অবহিত করব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

