আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এ উপলক্ষে তিনি কক্সবাজারের স্থানীয় সিভিল প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় অংশ নেন।
গতকাল সোমবার রাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে বিজিবি মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্যে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরো জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা নিরাপদ রাখার পাশাপাশি সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা, আচরণবিধি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসটিএক্স অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্ত, পেশাদার ও আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম, বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড, ড্রোন এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালক আরো বলেন, কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত থাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা উপস্থিতিজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
পরিশেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সংবিধান ও আইনের আলোকে অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন অব্যাহত রাখবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হলে সরকার গঠন করে কোনো লাভ হবে না