চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘এমইপি গ্রুপ’। নতুন এই কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন লাইটিং, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যাটাগরির বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ঘরোয়া বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজারে গুণগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত ‘এম-ই-পি একসেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ গ্র্যান্ড এচিভার সেলিব্রেশন’ শীর্ষক এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
একই অনুষ্ঠানে ‘এমইপি গ্রুপ’ আয়োজিত বিশেষ অফারের ৮০ জন বিজয়ী ব্যবসায়িক অংশীদার ও পরিবেশকের হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেল এবং ২টি ফ্রিজ পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের তৈরি আধুনিক পণ্যের প্রদর্শনী ও পারস্পরিক ব্যবসায়িক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
এমইপি গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ একর জমির ওপর প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই অত্যাধুনিক কারখানাটি নির্মিত হবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের নিরাপত্তা, মান, উৎপাদন সক্ষমতা ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয় ইলেকট্রিক্যাল খাতের সামগ্রিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি অনন্য ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কারখানাটি পুরোদমে চালু হলে তা বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক শিল্পখাতে একটি নতুন যুগান্তকারী দিগন্তের সূচনা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এমইপি গ্রুপ বাংলাদেশের ইলেকট্রিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের এই নতুন বিনিয়োগ এবং আধুনিক কারখানা স্থাপন বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনে সহায়ক হবে। এই মেগা উদ্যোগটি দেশের দ্রুত শিল্পায়ন, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনে অত্যন্ত ইতিবাচক অবদান রাখবে।
এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের এই নতুন কারখানা স্থাপন কেবল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রজেক্ট নয় বরং এটি পণ্যের গুণগত মান, তথ্যপ্রযুক্তি, আধুনিক উদ্ভাবন এবং বাজার প্রসারের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা। গ্রাহক, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক পার্টনারদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এমইপি গ্রুপকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের সর্ববৃহৎ নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পুরস্কার বিতরণী ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম নতুন কারখানা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে খুচরা বিক্রেতা ও গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করারই একটি সমন্বিত প্রয়াস। আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ‘এম-ই-পি একসেসরিজ’-এর বিশেষ অফারটি অব্যাহত থাকবে।
এমইপি গ্রুপের পরিচালক শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, বিজয়ী ৮০ জন রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটরের হাতে পুরস্কার হস্তান্তরের মাধ্যমে তাদের পরিশ্রম ও অংশীদারিত্বকে সম্মানিত করা হলো। নতুন কারখানার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের আগেই শক্ত বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং যৌথভাবে বাজার সম্প্রসারণ করাই গ্রুপের প্রাথমিক লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

