বাঁশখালীতে সাঙ্গু নদীতে বালু উত্তোলনে বিলীন কয়েকটি গ্রাম

মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

বাঁশখালীতে সাঙ্গু নদীতে বালু উত্তোলনে বিলীন কয়েকটি গ্রাম

বাঁশখালীর শঙ্খ (সাঙ্গু) নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধ বালুখেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীর পাড়ের শত শত একর আবাদিজমি, বসতভিটা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়েছে।

ড্রেজার বা শ্যালো মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ ও তীর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে । তীরবর্তী জনপদ ধসে পড়ছে। নদীভাঙনে ফসলি জমি ও মানুষের ভিটেমাটি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যেই শঙ্খ নদীভাঙনের কবলে পড়ে কয়েকটি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে ।

বিজ্ঞাপন

নতুন করে ভাঙনের মুখে খানখানাবাদের তেচ্ছিপাড়া, রোসাঙ্গিরীপাড়া ও ইশ্বর বাবুর হাটসংলগ্ন এলাকা। বালুখেকো সিন্ডিকেটগুলো সাধারণত রাতের আঁধারে বা প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। অবৈধ বালু উত্তোলন রুখতে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিস নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে।

জানা গেছে, খানখানাবাদ ইউপির ঈশ্বরবাবুর হাটসংলগ্ন এলাকায় শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুইটি মিনি ড্যাম্পার ও দুটি বালুর স্তূপ জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন।

অভিযানকালে ঈশ্বরবাবুর হাট এলাকায় দুইটি স্থানে বালুর স্তূপ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শঙ্খ নদী থেকে উত্তোলন করা এসব বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত করা হয়েছিল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বালুভর্তি দুইটি মিনি ড্যাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয়। পাশাপাশি দুইটি স্থানে স্তূপ করা বালুও জব্দ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন, বালুর স্তূপ ও ডাম্পার জব্দ করা হয়েছে । জড়িতদের মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায়, স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বালু উত্তোলনে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন