৪৮ ঘণ্টা পর ফের বন্ধ যমুনা ফার্টিলাইজার, বয়লারে লিকেজ

৪৮ ঘণ্টা পর ফের বন্ধ যমুনা ফার্টিলাইজার, বয়লারে লিকেজ

দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর গ্যাসের সংযোগ পেয়ে উৎপাদনে ফিরেছিল যমুনা ফার্টিলাইজার। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন।

বিজ্ঞাপন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা ফার্টিলাইজার গ্যাস সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফেরার পরও ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বন্ধ হওয়ায় রাষ্ট্রীয় এই সার কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বয়লারে সামান্য ত্রুটির কারণে ইউরিয়া উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ত্রুটি মেরামত করে উৎপাদন ফের চালুর আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানার ডিজিএম (এডমিন) দেলোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সবকিছু সচল আছে। অ্যামোনিয়া উৎপাদন চলছে। তবে বয়লারে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। আশা করছি, এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সমস্যাটি ঠিক করা সম্ভব হবে।

এর আগে দীর্ঘ সময় গ্যাসের সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ মাস কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকে। পরে উৎপাদন শুরু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় আট মাস পর গ্যাস সংযোগ ফিরে পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু উৎপাদন শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি ভারী শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর আগে এর বয়লারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না। কারণ গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বছরের পর বছর যান্ত্রিক ত্রুটি উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যমুনা সার কারখানার দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ টন। তবে গ্যাসের স্বল্প চাপ ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কয়েক বছর ধরে কারখানাটিতে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন হয়ে আসছিল। অর্থাৎ সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে না পারায় উৎপাদন ঘাটতিও ছিল নিয়মিত।

কারখানাটি সচল থাকা শুধু জামালপুরের জন্য নয়, বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের সার সরবরাহের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। ফলে কারখানাটি বারবার বন্ধ হওয়ায় সার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে কৃষির মৌসুমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে বাজারে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন