আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে রেখেছে র‌্যাব, চলছে যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রস্তুতি

জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে রেখেছে র‌্যাব, চলছে যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রস্তুতি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব–৭–এর অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে একজন নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকা ঘিরে যৌথবাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ, র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছেই দায়িত্বরত র‍্যাব–৭–এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন আমার দেশকে বলেন, আমাদের সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর পর আমরা দ্রুত পুরো এলাকা ঘিরে ফেলি। যেন কেউ পালাতে না পারে—সেজন্য সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চেকপোস্ট দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। তবে কখন অভিযান শুরু হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব–৭ জানায়, বিকেলে ১৬ সদস্যের একটি অপারেশন টিম গুরুত্বপূর্ণ এক আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যায়। স্থানীয় পথঘাট ও ঝোপঝাড় চিহ্নিত করে টিমটি ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই ২০–২৫ জন ব্যক্তি চারদিক থেকে সদস্যদের ঘিরে ধরে। মুহূর্তেই শুরু হয় বেধড়ক মারধর।

ঘটনাস্থলেই নিহত হন র‍্যাব নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব। গুরুতর আহত হন বাকি তিনজন সদস্য। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

র‍্যাব–৭–এর এক সিনিয়র কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন,আমরা চারদিকে অবস্থান নিয়েছিলাম, কিন্তু প্রথম মুহূর্তে গুলি করিনি। ভেতরে কোনো নিরীহ মানুষ আছে কি না—সেটা নিশ্চিত হতে চেয়েছি। আত্মরক্ষার ন্যূনতম চেষ্টা ছাড়া সদস্যরা অস্ত্র ব্যবহার করেনি। হামলাটা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং হঠাৎ।

তিনি আরও বলেন, শহীদ নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব আমাদের অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষিত সদস্য ছিলেন। হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।”

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। কারা হামলা করেছে, সবই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, র‍্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন আছে। রাত থেকেই স্থানীয়দের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে বস্তিবাসী, পাহাড়ি বসতি আর বিভিন্ন অসংগঠিত গোষ্ঠীর অবস্থান আছে। র‍্যাব–পুলিশ আগে থেকেই এই এলাকায় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার তথ্য দেয়। সোমবারের হামলার পর এলাকাজুড়ে তল্লাশি ও নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাহাড়ের ভেতর র‍্যাবের গাড়ি ঢুকতে দেখি। পরে গোলমালের শব্দ হয়। এখন চারদিক পুলিশ-র‍্যাব। কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

কে আসামি? কারা হামলাকারী

র‍্যাবের দাবি—যার গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে টিমটি গিয়েছিল, তিনি একাধিক মামলার ‘গুরুত্বপূর্ণ আসামি’ এবং অস্ত্র লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তব এই ব্যক্তি ধরা পড়েছেন কি না—তা নিশ্চিত করেনি র‍্যাব। পুলিশ ও র‍্যাব সূত্র বলছে, হামলাকারীদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পাহাড়ি দখল গোষ্ঠী এবং অস্ত্র বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন থাকতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে সময় লাগবে।

অভিযান শুরু যে কোনো সময়

সোমবার রাত থেকেই সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর একটি শক্তিশালী টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশ পথগুলো সিলগালা করা হয়েছে। ভোরের আগে বা সকালে অভিযান শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তার ভাষায়, এটি শুধু একজন আসামিকে ধরার অভিযান নয়—হামলার পর এখন গোটা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করার অপারেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...