দীর্ঘদিনেও দুটি স্লুইসগেট মেরামত না করায় পানিতে ভাসছে বাঁশখালীর হাজারো পরিবার। পশ্চিম পুঁইছড়ি টেকপাড়া ছেমটখালী খালের ভাঙা স্লুইসগেট ও আরবশাহ ঘোনা ফুটখালী খালের স্লুইসগেট দুটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে সংস্কারবিহীন পড়ে থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াপদার ওই স্লুইসগেট ভেঙে পড়ায় বর্তমানে স্লুইসগেট দুটি পুঁইছড়ি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের জীবন অভিশাপে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া কিছু অসাধু চক্র স্লুইসগেটে জাল ফেলে মাছ শিকার করার কারণেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এসব দেখার দায়িত্বে থাকলেও তা করা হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানায়, স্লুইসগেটের কপাট বা দরজা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন তা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এ সুযোগে এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি স্লুইসগেটে মাছ শিকারের জন্য জাল বসিয়ে জোয়ারের পানি অবাধে লোকালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই জোয়ারের লোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আমনের বীজতলা।
এলাকার মুরব্বি ছমুদুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেট দুটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় সাগরের জোয়ারের পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে শত শত ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়ে এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মিনহাজ উদ্দিন রিয়াজ, ফরিদ, কাদের ও জাফর জানান, স্লুইসগেটের ত্রুটির কারণে টেকপাড়া ছাড়াও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও এখন পানির নিচে। যাতায়াতের সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার অন্তত চার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এমএ কাশেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে পুরো ইউনিয়নের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে ভরা বর্ষা মৌসুম, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলের কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে।
এদিকে সরকারি দপ্তরের উদাসীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁশখালী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, তিনি দ্রুতই বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। স্লুইসগেটটি যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হয়ে থাকে, তবে সেটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের তালিকায় রাখা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

