কুমিল্লায় স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিখোঁজ হয়।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো কুমিল্লা পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মাইশা আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং মাইশার ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৮)।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েক তরুণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। তাদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে চার শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে ।
মোবাইল বিক্রি করে ঢাকায়, পরে হবিগঞ্জে
পুলিশ সুপার জানান, চার শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও তৈরি করত।
জিজ্ঞাসাবাদে মাইশা আক্তারের সঙ্গে আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয় ও জিসান; সোনিয়ার সঙ্গে সুজন ও মিনহাজ এবং ঝুমুরের সঙ্গে মোফাজ্জল ও শোয়েব নামের কয়েক তরুণের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ওই তরুণদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত ছিল না বলে পুলিশকে জানায়।
পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা, নিজেরা উপার্জন করা এবং স্বাধীনভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিল তারা। এ উদ্দেশ্যে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে বের হয় চার শিক্ষার্থী।
পরে কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে মাইশার পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকায় যায়। সেখানে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে একই দিন ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বাহার মার্কেট থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে।
যেভাবে হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয় চার শিক্ষার্থীকে
সোমবার সকালে চার শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়নি। বিকেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে অবহিত করে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে বিষয়টি জানানো হয় এবং পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পুলিশ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়। ধারাবাহিক অনুসন্ধানের একপর্যায়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহযোগিতায় চার শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের আন্তরিকতার কারণে চারটি শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। তাদের সঙ্গে বড় কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারত, যেমনটা ঘটেছিল লালমাইয়ে তাজমিনের ক্ষেত্রে। আমরা অভিভাবকদের দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ ডায়েরি করিয়েছি।’
শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো চক্র জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় কোনো চক্র কাজ করেনি। শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে চুনারুঘাটে চলে যায়।
পুলিশ সুপার অল্পবয়সী শিশুদের অনলাইন যোগাযোগ, চলাফেরা এবং নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

