নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ায়কে কেন্দ্র করে দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে (১৬) কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদক কারবারিরা। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদক কারবারি মো. হারুনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক হারুন একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামে হাজেরা দিঘিসংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার আবুল কালাম হাজিবাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল বলেন, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির পেছনের একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করেন স্থানীয় বেলাল মাস্টার বাড়ির আলী হায়দার ফাহিম (১৮), তার ভাই রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই মাদকসেবী হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে স্থানীয় তরুণেরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করে এবং ওই এলাকায় পাহারা বসায়। এতে কয়েক দিন মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।
তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে বায়তুন আমান জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকালে হারুনের নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
নোবেল বলেন, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানাবাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টারের বাড়ি। এছাড়া পাশাপাশি তার খালার বাড়ি। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি বেগমগঞ্জের চৌমুহনী থেকে নানাবাড়ি সেনবাগে বেড়াতে আসেন।
পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘি এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ সাত-আটজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার বলেন, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূল হোতা হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, সেনবাগে গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় সেবনকারী ও বাধাদানকারী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আরাফাত হোসেন ফাহিম মৃত্যুবরণ করে। সংঘর্ষে গাঁজা সেবনকারী হারুন ও সেবনে বাধাদানকারী সায়েম, শাকিবসহ চারজন আহত হয়। আহতরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মূল আসামি হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে হাসপাতালে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

