সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যেই বিএনপি নেতার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যেই বিএনপি নেতার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

সরকারি হাসপাতালের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করা যাবে না—মন্ত্রণালয়ের এমন স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সন্নিকটে একটি বেসরকারি হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কসবা পৌর এলাকার কদমতলী মোড়ে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ‘কসবা মডেল হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর ফিতা কেটে প্রাথমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালটির অন্যতম পরিচালক ও কসবা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকলিল আজম প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এত কাছাকাছি বাণিজ্যিক ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা ও উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে কসবা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও হাসপাতালটির পরিচালক ইকলিল আজম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন লিজ নিয়ে প্রায় এক মাস আগে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স পেলেও মূল অনুমোদন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দিইনি বা পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম শুরু করিনি; শুধু প্রাথমিক অংশ হিসেবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছি।

তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের হাসপাতালের অবস্থান যদি সরকারি নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে প্রয়োজনে আমরা এটি অন্যত্র সরিয়ে নেব।

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বেসরকারি হাসপাতালটির যদি স্বাস্থ্য দপ্তরের বৈধ অনুমোদন না থাকে কিংবা এটি যদি সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার পরিধির অভ্যন্তরে স্থাপিত হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহায়তা নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে—সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার সীমানার মধ্যে নতুন কোনো ক্লিনিক বা বেসরকারি হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। একই সাথে উক্ত সীমানার মধ্যে অবস্থিত বিদ্যমান কোনো ক্লিনিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সেবা দিতে পারবেন না মর্মেও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন