চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদক পাচারকারীদের অভিনব কৌশল ভণ্ডুল করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাধারণ গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) রাসেল পিপিএম (বার) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম বিপিএমের নির্দেশনায় জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চেকপোস্টে একটি সন্দেহজনক প্রাইভেট কারকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিকে ধাওয়া করলে একপর্যায়ে চালক মহাসড়কের পাশে গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পরিত্যক্ত গাড়িটি জব্দ করে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশির সময় গাড়ির ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার কর্মকর্তাদের সন্দেহের উদ্রেক করে। বাইরে থেকে সাধারণ সিলিন্ডার মনে হলেও সেটির ওজন ছিল অস্বাভাবিকভাবে হালকা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিলিন্ডারটি বিশেষ কৌশলে কেটে পরীক্ষা করা হলে ভেতরে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার পিস, যা সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডে উদ্ধার হওয়া অন্যতম বড় মাদক চালান। মাদক পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে এমন গোপন কক্ষ তৈরি করে ইয়াবা পরিবহনের পরিকল্পনা করেছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল পিপিএম (বার) বলেন, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তবে পুলিশও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের তৎপরতা প্রতিহত করছে। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানটির উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক চালক ও গাড়ির প্রকৃত মালিককে চিহ্নিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও জব্দকৃত গাড়ি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

