আইন লংঘন করে কুমিল্লায় গড়ে উঠছে বহুতল ভবন

মো. শাহ্ আলম শফি, কুমিল্লা (দক্ষিণ)

আইন লংঘন করে কুমিল্লায় গড়ে উঠছে বহুতল ভবন
কুমিল্লায় অবৈধভাবে যত্রতত্র গড়ে তোলা বহুতল ভবন। ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন আইনের তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। বাড়ছে জমি জবর দখলের ঘটনা। গড়ে তোলা হচ্ছে—অবৈধ স্থাপনা। নগরবাসী অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। এতে করে বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও হয়রানির ঘটনা । জানা গেছে, সিটি করপোরেশন দীর্ঘ দেড় দশকেও অনিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারছে না বলে নাগরিকদের অভিযোগ উঠেছে। অননুমোদিত স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। নগরীর কোথাও না কোথাও অবাধে অননুমোদিত বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে দিন দিন নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে নতুন প্রশাসক পদে ইউসুপ মোল্লা টিপু নিয়োগ পেয়ে নাগরিক সমস্যা নিরসনে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, ১৮৬৪ সালে পৌরসভা হওয়ার প্রায় ১৪৭ বছর পর ২০১১ সালের জুলাই মাসে কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ পৌরসভা একীভূত করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে কুমিল্লাবাসী খুশি হলেও দিন যতই বাড়ছে, ততই নগরবাসীরও দুর্ভোগ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সিটি করপোরেশন আইনে আবাসিক-বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণে সর্বমোট ১২-১৩টি দপ্তর থেকে অনুমতিপত্র নিতে হয়। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা। এই যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ১৫-২০ ফুট রাস্তার জায়গা থাকলে পাঁচ-ছয়তলা ভবন, ২৫-৩০ ফুট রাস্তার জায়গা থাকলে সর্বোচ্চ ৯তলা পর্যন্ত বহুতল ভবন নির্মাণে অনুমতি পাওয়া যায়। উল্লেখিত নির্দেশনার বাইরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশন আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ভবন মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অননুমোদিত স্থানগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আর এই অনুমতি পেয়েই অননুমোদিত স্থানে ১০,১৩,১৪তলা পর্যন্ত বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে । আর সেই কাজগুলো করছে সিন্ডিকেট, অবৈধ টাকার বিনিময়ে আবার কোথাও ডেভেলপার কোম্পানিগুলো। জানা গেছে, প্রায় ৫৩ বর্গমাইলের কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রধান এলাকাজুড়েই জলাবদ্ধতা, যানজট, আবর্জনার ভাগাড়, ফুটপাত দখল ইত্যাদি সবচেয়ে বেশি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সিটি করপোরেশন আইনের সঠিক ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। মানুষের সেবার মান বাড়ানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা অচিরেই এসব তদারকিতে মাঠে নামব। নতুন করে আর কোনো অনিয়ম করতে দেওয়া যাবে না।

এছাড়াও কুমিল্লাকে একটি বসবাস উপযোগী নগরী করতে শিগগিরই জোরালো কর্মসূচি নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...