আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়োগ

আড়াই বছর আগের ফলাফল চূড়ান্ত না করে আবারও পরীক্ষা

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

আড়াই বছর আগের ফলাফল চূড়ান্ত না করে আবারও পরীক্ষা

চট্টগ্রাম ওয়াসায় দুটি পদে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আড়াই বছরের বেশি সময়েও প্রকাশ করা হয়নি। সেই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল কিংবা নিষ্পত্তি না করেই অনুরূপ দুই পদে আবারও পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত ৬৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী পদে আগামীকাল শনিবার লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এবার দুটি পদে নিয়োগ পেতে ৯ হাজার ৪০৮ চাকরিপ্রত্যাশী পরীক্ষা দেবেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আগের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ কিংবা বাতিল না করেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগবাণিজ্যের আশঙ্কা করছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ওয়াসার মতো একটি সরকারি সেবা সংস্থায় এমন অস্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া সংস্থাটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তুলবে।

জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে ১২ মে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী প্রকৌশলী পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই লিখিত পরীক্ষায় মোট ৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু পরে আর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আর অজ্ঞাত কারণে উপসহকারী প্রকৌশলী পদের পরীক্ষার ফলাফলই প্রকাশ করেনি ওয়াসা।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১২ সালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আস্থাভাজন মো. ফজলুল্লাহ চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তার হাত ধরে সব নিয়োগবাণিজ্য চলতে থাকে। চট্টগ্রাম ওয়াসায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোক ছাড়া কোনো নিয়োগই দেননি তিনি। ২০২৩ সালে দুটি পদে ওয়াসা প্রশাসন ও সিন্ডিকেটের পছন্দের প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা নেননি এমডি ফজলুল্লাহ।

ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, তিন বছর আগে হওয়া পরীক্ষা বাতিল না করে আবারও পরীক্ষা নিচ্ছে ওয়াসা। পরীক্ষা নিতে আগেরবার চুয়েটকে ২২ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এবার দিতে হচ্ছে ৬৭ লাখ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ টাকার ওপরে। অথচ একই পরীক্ষার জন্য একবার রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ হয়ে গেছে। এছাড়া আগের পরীক্ষা বাতিল না করে আবার পরীক্ষা নেওয়া বেআইনি বলে জানায় ওই সূত্র।

এদিকে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ওয়াসায় দুটি পদে ২১ জনকে নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এবার সাতজন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেবে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে ২০২২ সালের এপ্রিলে যারা আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী জানান, ২০২৩ সালে পরীক্ষা নিলেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এখন আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়েছে; কিন্তু তিন বছর আগে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের তো আর সরকারি চাকরির জন্য বেঁধে দেওয়া বয়স নেই। তাহলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কী করব! এটা এক ধরনের তামাশা।

আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, আগের পরীক্ষা বাতিল না করে আবার নতুনভাবে ওই একই পদে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তিন বছর আগের পরীক্ষাটি যদি বাতিল করাও হয়, তাহলে কী কারণে বাতিল হবে- সেটা চাকরিপ্রত্যাশীদের জানাতে হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়োগ সিন্ডিকেট এখনো বহাল আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ওয়াসার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবারের নিয়োগে ৯ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষা দেবেন। পরীক্ষার্থী অনুসারে চুয়েটকে খাতা কাটা, পরীক্ষা গ্রহণ করা বাবদ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এভাবে বারবার পরীক্ষা নেওয়া সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, আগের পরীক্ষায় কতজন নিয়োগ করা হবে- সেটির উল্লেখ ছিল না। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ের কোনো ছাড়পত্র না নিয়েই সেবার পরীক্ষা নিয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন। এবার আমরা ছাড়পত্র নিয়ে ওয়াসা বোর্ডের সিদ্ধান্তে নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছি। তবে আগের যারা পরীক্ষার্থী, তাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন