চট্টগ্রামের মিরসরাই সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি সংক্রান্ত কাজে ঘুসের অর্থ নিয়ে দর-কষাকষির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শামসুন্নাহারকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে শোকজ নোটিস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ভাইরাল ভিডিওতে মিরসরাই সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের সঙ্গে এক সেবাগ্রহীতার নামজারির কাজের বিপরীতে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথনের দৃশ্য দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে, ‘এখানে আমাদের কিছু খরচপাতি আছে’—এমন বক্তব্য শোনা যায়। পরে অর্থের পরিমাণ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দর-কষাকষির কথোপকথনও দেখা যায়।
জানা গেছে, শামসুন্নাহার প্রায় ১৪ মাস আগে মিরসরাই সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন। তবে ভাইরাল ভিডিওটি কে ধারণ করেছেন এবং ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের বলেন,
বিষয়টি জানার পর সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে অফিশিয়ালি শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রায় এক বছর আগের। তখন বর্তমান ভূমি অফিস ভবনের নির্মাণকাজ চলায় অস্থায়ীভাবে পৌর ভবনের পাশের কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইকবাল হোসেন সানি নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) নামজারির কাজ করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। বিষয়টি জানার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শামসুন্নাহারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন চাকরির সুযোগে ওই কর্মচারী পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর গোপন ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখতেন। প্রায় এক বছর আগের ওই ভিডিও দেখিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছিল। তিনি দাবি পূরণে রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

